★★★কবিরা গুনাহ★★★
→১ টা কবিরা গুনার জন্য ৭ হাজার বছর জাহান্নামে যেতে হবে। যেমন:> যার সঙ্গে দেখা করা যায়েজ নাই ইচ্ছা করিয়া দেখা করা কবিরা গুনা। গান শুনা কবিরা গুনা। বিড়ি খাওয়া কবিরা গুনা। দাড়ি কাঠা কবিরা গুনা। মিথ্যা কথা বলা কবিরা গুনা, সুদ খাওয়া কবিরা গুনা, ইত্যাদি।
★★কবিরা গুনা তওবা ছাড়া মাফ হয় না★★
★★কবীরা গুনাহ কাকে বলে?
কবীরা গুনাহ বলা হয় ঐ সকল বড় বড় পাপকর্ম সমূহকে যেগুলোতে নিন্মোক্ত কোন একটি বিষয় পাওয়া যাবে:
★যে সকল গুনাহের ব্যাপারে ইসলামে শরীয়তে জাহান্নামের শাস্তির কথা বলা হয়েছে।
★যে সকল গুনাহের ব্যাপারে দুনিয়াতে নির্ধারিত দণ্ড প্রয়োগের কথা রয়েছে।
★যে সকল কাজে আল্লাহ তায়ালা রাগ করেন।
★যে সকল কাজে আল্লাহ তায়ালা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও ফেরেশতা মণ্ডলী লানত দেন।
★যে কাজের ব্যাপারে বলা হয়েছে, যে এমনটি করবে সে মুসলমানদের দলভুক্ত নয়।
কিংবা যে কাজের ব্যাপারে আল্লাহ ও রাসূলের সাথে সম্পর্কহীনতার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
★যে কাজে দ্বীন নাই, ঈমান নাই ইত্যাদি বলা হয়েছে।
★যে ব্যাপারে বলা হয়েছে এটি মুনাফিকের আলামত বা মুনাফিকের কাজ।
অথবা যে কাজকে আল্লাহ তায়ালা সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয় করা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কবীরা গুনাহ থেকে বিরত থাকার মর্যাদাঃ
১. মহান আল্লাহ বলেন:
إِن تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُم مُّدْخَلًا كَرِيمًا
“যেগুলো সম্পর্কে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে যদি তোমরা সেসব বড় গোনাহ গুলো থেকে বেঁচে থাকতে পার। তবে আমি তোমাদের (ছাট) গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেব এবং সম্মান জনক স্থানে তোমাদের প্রবেশ করাব।” (সূরা নিসা: ৩১)
২. রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন:
الصلوات الخمس . والجمعة إلى الجمعة . ورمضان إلى رمضان . مكفرات ما بينهن إذا اجتنب الكبائر
“পাঁচ ওয়াক্ত নামায, এক জুমআ থেকে আরেক জুমআ এবং এক রামাযান থেকে আরেক রামাযান এতদুভয়ের মাঝে সংঘটিত সমস্ত পাপরাশীর জন্য কাফফারা স্বরূপ যায় যদি কবীরা গুনাহ সমূহ থেকে বেঁচে থাকা যায়।” (মুসলিম)
★★১০০টি কবীরা গুনাহ:
★আল্লাহর সাথে শিরক করা
★নামায পরিত্যাগ করা
★পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া
★অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা
★পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করা
★যাদু-টোনা করা
★এতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করা
★জিহাদের ময়দান থেকে থেকে পলায়ন করা
★সতী-সাধ্বী মু‘মিন নারীর প্রতি অপবাদ দেয়া
★রোযা না রাখা
★যাকাত আদায় না করা
★ক্ষমতা থাকা সত্যেও হজ্জ আদায় না করা
★যাদুর বৈধতায় বিশ্বাস করা
★প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া
★অহংকার করা
★চুগলখোরি করা (ঝগড়া লাগানোর উদ্দেশ্যে একজনের কথা আরেকজনের নিকট লাগোনো)
★আত্মহত্যা করা
★আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্ন করা
★অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ ভক্ষণ করা
★উপকার করে খোটা দান করা
★মদ বা নেশা দ্রব্য গ্রহণ করা
★মদ প্রস্তুত ও প্রচারে অংশ গ্রহণ করা
★জুয়া খেলা
★তকদীর অস্বীকার করা
★অদৃশ্যের খবর জানার দাবী করা
★গণকের কাছে ধর্না দেয়া বা গণকের কাছে অদৃশ্যের খবর জানতে চাওয়া
★পেশাব থেকে পবিত্র না থাকা
★রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নামে মিথ্যা হাদীস বর্ণনা করা
★মিথ্যা স্বপ্ন বর্ণনা করা
★মিথ্যা কথা বলা
★মিথ্যা কসম খাওয়া
★মিথ্যা কসমের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয় করা
★জিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া
★সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া
★মানুষের গোপন কথা চুপিসারে শোনার চেষ্টা করা
★হিল্লা তথা চুক্তি ভিত্তিক বিয়ে করা।
★যার জন্যে হিলা করা হয়
★মানুষের বংশ মর্যাদায় আঘাত হানা
★মৃতের উদ্দেশ্যে উচ্চস্বরে ক্রন্দন করা
★মুসলিম সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা
★মুসলিমকে গালি দেয়া অথবা তার সাথে লড়ায়ে লিপ্ত হওয়া
★খেলার ছলে কোন প্রাণীকে নিক্ষেপ যোগ্য অস্ত্রের লক্ষ্য বস্তু বানানো
★কোন অপরাধীকে আশ্রয় দান করা
★আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে পশু জবেহ করা
★ওজনে কম দেয়া
★ঝগড়া-বিবাদে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করা
★ইসলামী আইনানুসারে বিচার বা শাসনকার্য পরিচালনা না করা
★জমিনের সীমানা পরিবর্তন করা বা পরের জমি জবর দখল করা
★গীবত তথা অসাক্ষাতে কারো দোষ চর্চা করা
★দাঁত চিকন করা
★সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে মুখ মণ্ডলের চুল তুলে ফেলা বা চুল উঠিয়ে ভ্রু চিকন করা
★অতিরিক্ত চুল সংযোগ করা
★পুরুষের নারী বেশ ধারণ করা
★নারীর পুরুষ বেশ ধারণ করা
★বিপরীত লিঙ্গের প্রতি কামনার দৃষ্টিতে তাকানো
★কবরকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করা
★পথিককে নিজের কাছে অতিরিক্ত পানি থাকার পরেও না দেয়া
★পুরুষের টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পোশাক পরিধান করা
★মুসলিম শাসকের সাথে কৃত বাইআত বা আনুগত্যের শপথ ভঙ্গ করা
★ডাকাতি করা
★চুরি করা
★সুদ লেন-দেন করা, সুদ লেখা বা তাতে সাক্ষী থাকা
★ঘুষ লেন-দেন করা
★গনিমত তথা জিহাদের মাধ্যমে কাফেরদের নিকট থেকে প্রাপ্ত সম্পদ বণ্টনের পূর্বে আত্মসাৎ করা
★স্ত্রীর পায়ু পথে যৌন ক্রিয়া করা
★জুলুম-অত্যাচার করা
★অস্ত্র দ্বারা ভয় দেখানো বা তা দ্বারা কাউকে ইঙ্গিত করা
★প্রতারণা বা ঠগ বাজী করা
★রিয়া বা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে সৎ আমল করা
★স্বর্ণ বা রৌপ্যের তৈরি পাত্র ব্যবহার করা
★পুরুষের রেশমি পোশাক এবং স্বর্ণ ও রৌপ্য পরিধান করা
★সাহাবীদের গালি দেয়া
★নামাযরত অবস্থায় মুসল্লির সামনে দিয়ে গমন করা
★মনিবের নিকট থেকে কৃতদাসের পলায়ন
★ভ্রান্ত মতবাদ জাহেলী রীতিনীতি অথবা বিদআতের প্রতি আহবান করা
★পবিত্র মক্কা ও মদীনায় কোন অপকর্ম বা দুষ্কৃতি করা
★কোন দুষ্কৃতিকারীকে প্রশ্রয় দেয়া
★আল্লাহর ব্যাপারে অনধিকার চর্চা করা
★বিনা প্রয়োজনে তালাক চাওয়া
★যে নারীর প্রতি তার স্বামী অসন্তুষ্ট
★স্বামীর অবাধ্য হওয়া
★স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর অবদান অস্বীকার করা
★স্বামী-স্ত্রীর মিলনের কথা জনসম্মুখে প্রকাশ করা
★স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিবাদ সৃষ্টি করা
★বেশী বেশী অভিশাপ দেয়া
★বিশ্বাস ঘাতকতা করা
★অঙ্গীকার পূরণ না করা
★আমানতের খিয়ানত করা
★প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া
★ঋণ পরিশোধ না করা
★বদ মেজাজি ও এমন অহংকারী যে উপদেশ গ্রহণ করে না
★তাবিজ-কবজ, রিং, সুতা ইত্যাদি ঝুলানো
★পরীক্ষায় নকল করা
★ভেজাল পণ্য বিক্রয় করা
★ইচ্ছাকৃত ভাবে জেনে শুনে অন্যায় বিচার করা
★আল্লাহ বিধান ব্যতিরেকে বিচার-ফয়সালা করা
★দুনিয়া কামানোর উদ্দেশ্যে দীনী ইলম অর্জন করা
★কোন ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে জানা সত্যেও তা গোপন করা
★নিজের পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে দাবী করা
★আল্লাহর রাস্তায় বাধা দেয়া
★★বিড়ি_সিগারেট_হারাম_হওয়ার_কারণ★★
শরীয়তের বিধানের সকল কিছুর স্পষ্ট দলীল নেই। আর না থাকলে কোন জিনিস যে হালাল, তা নয়। শরীয়তের স্পষ্ট উক্তিসমুহ থেকে ফকীহগন এমন কিছু নীতি নির্ণয় করেন, যার দ্বারা বলা যায় কোনটা হালাল, আর কোনটা হারাম। যে সকল নীতির মাধ্যমে বিড়ি-সিগারেটকে হারাম করা হয়, তার কিছু নিম্নরুপঃ-
(ক) এতে রয়েছে অনর্থক অর্থ অপচয়। আর ইসলামে অপচয় হারাম।
(খ) এতে রয়েছে স্বাস্থ্যগত ক্ষতি। আর যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, ইসলামে তা হারাম।
(গ) বেশি পরিমাণ পান করলে, তাতে জ্ঞানশূন্যতা আসতে পারে। আর যাতে নেশা, মাদকতা ও জ্ঞানশূন্যতা আসে, ইসলামে তা হারাম।
(ঘ) এতে দুর্গন্ধ আছে। এর দুর্গন্ধে অধূমপায়ীরা কষ্ট পায়। সুতরাং তা পবিত্র জিনিস নয়। আর ইসলাম পবিত্র জিনিস খাওয়াকে হালাল এবং অপবিত্র জিনিস খাওয়াকে হারাম ঘোষণা করেছে।
★★সুদী_ব্যাংকে_চাকুরী_করা_হারাম★★
সুদী ব্যাংকে যে কোন চাকুরী করা হারাম। যেহেতু এতে চাকুরী করার অর্থই হল সূদের উপর সহায়তা করা। অতএব যদি সূদী কারবারের উপর সহায়তা হয়, তাহলে সে (চাকুরে) সহায়ক হিসেবে অভিশাপে শামিল হবে। নবী (সঃ) সুদখোর, সুদদাতা, তার সাক্ষিদাতা ও তার লেখককে অভিসাম্পত করেছেন এবং বলেছেন, “ওরা সবাই সমান।” (মুসলিম ১৫৯৮ নং)
পক্ষান্তরে এ কাজ যদি সুদী কারবারের উপর সহায়ক না হয়, তাহলেও উক্ত কারবারে তার সম্মতি ও মৌন সমর্থন প্রকাশ পায়। তাই সুদী ব্যাংকে কোন প্রকার চাকুরী নেওয়া বৈধ নয়।
বাংলাদেশের প্রায় সব ব্যাংকই কম বেশী সুদী কারবারে জড়িত হওয়ায় সেখানে যে কোন চাকুরী
করা হারাম।
অবশ্য প্রয়োজনে ওই ব্যাংকে টাকা জমা রাখায় ক্ষতি নেই--- যদি ওই সমস্ত ব্যাংক ছাড়া টাকা জমা রাখার জন্য আমরা অন্য ভিন্ন কোন নিরাপদ স্থান না পাই। তবে এই শর্তে যে, তা থেকে যেন কেউ সুদ গ্রহণ না করে। যেহেতু সুদ গ্রহণ অবশ্যই হারাম।
★আল্লাহর_গুণাবলী_মানুষের_গুণাবলীর_মতই_বিশ্বাস_কবীরা_গুণাহ্★
যে ব্যক্তি এই বিশ্বাস পোষণ করবে যে, আল্লাহর সিফাত তথা গুণাবলী মানুষের গুণাবলীর মতই
সে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। কেননা কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী আল্লাহর গুণাবলী মানুষের গুণাবলীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ-
“তাঁর অনুরূপ আর কেউ নেই তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।” (সূরা শুরাঃ ১১)
দু’টি জিনিষের নাম ও গুণ এক হলেই জিনিষ দু’টি সকল দিক থেকে এক হওয়া জরুরী নয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি। মানুষের মুখমন্ডল আছে। উটেরও মুখমন্ডল আছে। মুখ দু’টি কি একই রকম? কখনই নয়। অনুরূপভাবে উটের হাত আছে পিপিলিকারও হাত আছে। হাত দু‘টি কি সমান? তাহলে কেন আমরা বলব না যে, আল্লাহর চেহারা আছে। তা মাখলুকাতের চেহারার অনুরূপ নয়। আল্লাহর হাত আছে। কিন্তু তা মানুষের হাতের মত নয়। আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “তারা যথার্থভাবে আল্লাহর ক্ষমতা ও সম্মান বুঝতে পারেনি। কিয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী থাকবে তাঁর
হাতের মুঠোতে এবং আসমানসমূহ ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে তাঁর ডান হাতে।” (সূরা যমারঃ
৬৭)
★ আল্লাহ আরো বলেনঃ
“সেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে নেব, যেভাবে গুটানো হয় লিখিত কাগজপত্র।” (সূরা আম্বিয়াঃ ১০৪)
কোন মাখলুকের কি এধরণের হাত রয়েছে? কখনই নয়। সুতরাং আমাদের জেনে রাখা উচিৎ যে, যিনি সৃষ্টিকর্তা তিনি সৃষ্টিজীবের মত নন। না সত্বায় না গুণাবলীতে।
★ “তাঁর মত আর কেউ নেই তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।” (সূরা শুরাঃ ১১)
এই জন্যই আল্লাহর কোন সিফাতের ধরণ গঠন বা প্রকৃতি অনুসন্ধান করা ঠিক নয়। কিংবা এরকম ধারণা করা ঠিক নয় যে, আল্লাহর গুণসমূহ মানুষের গুণাবলীর মতই।
★ আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন:
‘‘তাদের পর আসলো (অপদার্থ) বংশধর। তারা সালাত
নষ্ট করল ও লালসার বশবর্তী হল,
সুতরাং তারা অচিরেই কু-কর্মের শাস্তি প্রত্যক্ষ
করবে। কিন্তু তারা নয় যারা তওবা করেছে, ঈমান
এনেছে ও নেক কাজ করেছে।’’ (মারইয়াম ৫৯-৬০)
হাদীসে বর্ণিত আছে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ
করেন- ‘‘কোন মুমিন ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরের
মধ্যে পার্থক্য হল সালাত ত্যাগ করা।’’ (মুসলিম)
রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেছেন, ‘‘আমাদের ও তাদের মধ্যে পার্থক্য হল সালাত, যে তা পরিত্যাগ করল সে কাফের
হয়ে গেল।’’ (আহমাদ:২১৮৫৯)
★কবিরা গুনাহ থেকে দূরে থাকতে হবে কেন?
------------------------------------------
কবীরা গোনাহ সমূহ থেকে বিরত
থাকলে,
ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দেবে:
মহান আল্লাহ বলেন, ﺇِﻥْ ﺗَﺠْﺘَﻨِﺒُﻮْﺍ ﻛَﺒَﺎﺋِﺮَ ﻣَﺎ
ﺗُﻨْﻬَﻮْﻥَ ﻋَﻨْﻪُ ﻧُﻜَﻔِّﺮْ ﻋَﻨْﻜُﻢْ ﺳَﻴِّﺌَﺎﺗِﻜُﻢْ ﻭَﻧُﺪْﺧِﻠْﻜُﻢْ ﻣُﺪْﺧَﻼً ﻛَﺮِﻳْﻤًﺎ
‘যদি তোমরা কবীরা গোনাহ সমূহ
থেকে বিরত থাক,
তাহ’লে আমরা তোমাদের (ছোট
খাট)
ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দেব
এবং তোমাদেরকে সম্মানজনক
গন্তব্যে প্রবেশ
করাব’ (নিসা ৪/৩১)।
তিনি আরো বলেন, ﺍَﻟَّﺬِﻳْﻦَ ﻳَﺠْﺘَﻨِﺒُﻮْﻥَ ﻛَﺒَﺎﺋِﺮَ ﺍﻟْﺈِﺛْﻢِ
ﻭَﺍﻟْﻔَﻮَﺍﺣِﺶَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠَّﻤَﻢَ ﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻚَ ﻭَﺍﺳِﻊُ ﺍﻟْﻤَﻐْﻔِﺮَﺓِ ‘যারা বড়
বড় গোনাহ ও অশ্লীলকার্য
থেকে বেঁচে থাকে ছোটখাট
অপরাধ করলেও নিশ্চয়ই তোমার
পালনকর্তার ক্ষমা সুদূর
বিস্তৃত’ (নাজম ৫৩/৩২)।
আবু হুরায়রাহ (রাঃ)
হ’তে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ
(ছাঃ) বলেন, ﺍﻟﺼَّﻠَﻮَﺍﺕُ ﺍﻟْﺨَﻤْﺲُ ﻭَﺍﻟْﺠُﻤُﻌَﺔُ ﺇِﻟَﻰ
ﺍﻟْﺠُﻤُﻌَﺔِ ﻭَﺭَﻣَﻀَﺎﻥُ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﻣُﻜَﻔِّﺮَﺍﺕٌ ﻣَﺎ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻦَّ ﺇِﺫَﺍ
ﺍﺟْﺘَﻨَﺐَ ﺍﻟْﻜَﺒَﺎﺋِﺮَ ‘পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত
এবং এক জুম‘আ থেকে অপর জুম‘আ, এক
রামাযান থেকে অপর রামাযান এর
মাঝে যত গোনাহ করা হয়, সবগুলির
কাফফারাহ হয়। যদি কবীরা গুনাহ
থেকে বিরত থাকে’।
Wap4dollar.com
Tuesday, 12 May 2015
★★★কবিরা গুনাহ★★★
Thursday, 2 April 2015
★★ কিয়ামত কি খুব নিকটে?
★ কিয়ামত কি খুব নিকটে?
→হযরত জিবরাঈল (আঃ) ২৪ হাজার বার দুনিয়াতে হুজুর (সাঃ) এর দরবারে এসেছিলেন এক সাক্ষাতে। হুজুর (সাঃ) জিবরাঈল (আঃ) কে জিঙ্গাসা করেছিলেন, হে জিবরাঈল ! আমার ইন্তেকালের পরে তুমি কতবার দুনিয়াতে আসবে? তিনি বললেন, ১০ বার আসব এবং প্রতিবারই একটি করে জিনিস তুলে নেব। দশম জিনিসটা তুলে নেওয়ার পর ঈসরাফিল (আঃ) সিঙ্গায় ফুঁ দিবেন এবং কেয়ামত আরম্ভ হবে।।
★ দশটি জিনিস হল:-
১। বরকত তুলে নেব।।
২। এবাদত থেকে মজা তুলে নেব।।
৩। পরস্পর মহব্বত তুলে নেব।।
৪। লজ্জা তুলে নেব।।
৫। হক বিচার তুলে নেব।।
৬। ছবর (ধর্য্য) তুলে নেব।।
৭। আলেম থেকে সত্য কথা তুলে নেব।।
((অর্থাৎ একদল আলেম জানা সত্ত্বেও হক কথা বলবে না))
৮। ধনীদের সৎ সাহস উঠিয়ে নেব।।
৯। ঈমানদার থাকবে না, ঈমান উঠে যাবে।।
১০। ক্বারীদের কাছ থেকে কোরআনের তেলোয়াত তুলে নেব।।
((অর্থাৎ কোরআনকে উঠিয়ে নেব))
★নামায না পড়ার শাস্তি★
★ যারা নামায পড়েনা তাদের জন্য আল্লাহ্ পাক পনেরটি আজাব নির্দিষ্ট করিয়া রাখিয়াছেন।পনেরটি আজাবের মধ্যে ছয়টি দুনিয়ায়, তিনটি মৃত্যুর সময়, তিনটি কবরের মধ্যে এবং বাকি তিনটি হাশরের মধ্যে দেয়া হইবে।
★দুনিয়াতে ছয়টি আযাব :
১। তাহার জীবনে কোনরূপ বরকত পাইবেনা।
২। আল্লাহ্ তার চেহারা হইতে নেক লোকের চিহ্ন উঠাইয়া লইবেন।
৩। যে যাহা কিছু নেক কাজ করবে, তাহার ছওয়াব পাইবেনা।
৪। তাহার দোয়া আল্লাহ্ পাকের নিকট কবুল হইবে না।
৫। আল্লাহ্ পাকের সমস্ত ফেরেশতা তাহার উপর অসন্তুষ্ট থাকবে।
৬। ইসলামের মূল্যবান নেয়ামত সমূহ হইতে বঞ্চিত করা হইবে।
★ মৃত্যুর সময় তিনটি আজাব :
১। অত্যন্ত দুর্দশাগ্রস্ত হইয়া মৃত্যুবরণ করিবে।
২। ক্ষুধার্ত অবস্থায় মৃত্যু বরন করিবে।
৩। মৃত্যুকালে তাহার এত পিপাসা পাইবে যে,তাহার ইচ্ছা হইবে দুনিয়ার সমস্ত পানি পান করিয়া ফেলিতে।
★ কবরের মধ্যে তিনটি আজাব :
১। তাহার কবর এমন সংকীর্ণ হবে যে তাহার এক পাশের হাড় অপর পাশের হাড়ের সংগে মিলিত হইয়া চূর্ণবিচূর্ণ হইয়া যাইবে।
২। তাহার কবরে, দিনরাত্রি সবসময় আগুন জ্বালাইয়া রাখা হবে।
৩। আল্লাহ্ তাহার কবরে একজন আজাবের ফেরেশ্তা নিযুক্ত করিবেন। তাহার হাতে লোহার মুগুর থাকবে। সে মৃত ব্যক্তিকে বলতে থাকবে যে,দুনিয়ায় কেন নামায পড় নাই। আজ তাহার ফল ভোগ কর। এই বলিয়া ফজর নামায না পড়ার জন্য ফজর হইতে জোহর পর্যন্ত, জোহর নামাযের জন্য জোহর থেকে আছর পর্যন্ত, আছরের নামাযের জন্য আছর থেকে মাগরিব পর্যন্ত, মাগরিবের নামাযের জন্য মাগরিব হইতে এশা পর্যন্ত এবং এশার নামাযের জন্য এশা হইতে ফজর পর্যন্ত লোহার মুগুর দ্বারা আঘাত করতে থাকবে।
☑আমাদের মধ্যে যারা মুসলিম আছে আসুন ভাই আমরা সকল ভাই ও বোনেরা নিয়মিত এবং সময়মত নামাজ পড়ি, অপর ভাইদের ও বলি নামাজ পরার জন্য। তাহলেই একমাত্র আমাদের সমাজ এ প্রকৃত শান্তি ও মুক্তি আসবে।
★কোরআন শরিফে ১বার না ২বার না ৩ বার নয় ৮২ বার বলা হয়েছে তোমরা নামায
কায়েম করো………..............
★★★আল্লাহ্ পাকের "পনেরটি আজাব"-
যারা নামায পড়েনা তাদের জন্য আল্লাহ্ পাক “”পনেরটি আজাব”” নির্দিষ্ট করিয়া রাখিয়াছেন।পনেরটি আজাবের মধ্যে ছয়টি দুনিয়ায় তিনটি মৃত্যুর সময়, তিনটি কবরের মধ্যে ও তিনটি হাশরের মধ্যে দেয়া হইবে।
★★দুনিয়াতে ছয়টি আযাবঃ–
১, তাহার জীবনে কোনরূপ বরকত হইবেনা।
২, আল্লাহ্ তার চেহারা হইতে নেক লোকের চিহ্ন
উঠাইয়া লইবেন।
৩, যে যাহা কিছু নেক কাজ করবে, তাহার ছওয়াব
পাইবেনা।
৪, তাহার দোয়া আল্লাহ্ পাকের নিকট কবুল
হইবে না।
৫, আল্লাহ্ পাকের সমস্ত ফেরেশতা তাহার উপর
অসন্তুষ্ট থাকবে।
৬, ইসলামের মূল্যবান নেয়ামত সমূহ হইতে বঞ্চিত
করা হইবে।
★★মৃত্যুর সময় আজাব তিনটিঃ–
১, অত্যন্ত দুর্দশাগ্রস্ত হইয়া মৃতুবরণ করিবে।
২, ক্ষুধার্ত অবস্থায় মৃত্যু বরন করিবে।
৩, মৃত্যুকালে তাহার এত পিপাসা পাইবে যে,
তাহার ইচ্ছা হইবে দুনিয়ার সমস্ত পানি পান
করিয়া ফেলিতে।
★★কবরের মধ্যে তিনটি আজাবঃ–
১, তাহার কবর এমন সংকীর্ণ হবে যে তাহার এক
পাশের হাড় অপর পাশের হাড়ের সংগে মিলিত
হইয়া চূর্ণবিচূর্ণ হইয়া যাইবে।
২, তাহার কবরে, দিনরাত্রি সবসময় আগুন
জ্বালাইয়া রাখা হবে।
৩, আল্লাহ্ তাহার কবরে একজন আজাবের ফেরেশ্তা নিযুক্ত করিবেন। তাহার হাতে লোহার মুগুর থাকবে। সে মৃত
ব্যক্তিকে বলতে থাকবে যে, দুনিয়ায় কেন নামায পড় নাই। আজ তাহার ফল ভোগ কর। এই বলিয়া ফজর নামায না পড়ার জন্য ফজর হইতে জোহর পর্যন্ত,
জোহর নামাযের জন্য জোহর থেকে আছর পর্যন্ত, আছরের নামাযের জন্য আছর থেকে মাগরিব পর্যন্ত, মাগরিবের নামাযের জন্য মাগরিবহইতে এশা পর্যন্ত এবং এশার নামাযের জন্য এশা হইতে ফজর পর্যন্ত লোহার মুগুর দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। প্রত্যেক বার আঘাতের সময় বজ্রপাতের মত শব্দ হইবে এবং শরীর চূর্ণবিচূর্ণ হইয়া পঞ্চাশ গজ মাটির নিচে চলিয়া যাইবে। সেই ফেরেশ্তা পুনরায় তাহাকে জীবিত করিয়া হাড় মাংস এক করিয়া আবার আঘাত করিতে থাকিবে। এই ভাবে কিয়ামত পর্যন্তলোহার মুগুর দিয়া তাহাকে আঘাত করতে থাকবে।
★★হাশরের মাঠে তিনটি আজাবঃ–
১, একজন ফেরেশতা তাকে পা উপরের
দিকে এবং মাথা নিচের দিকে অবস্থায় হাশরের
মাঠে লইয়া যাইবে।
২. আল্লাহ পাক তাহাকে অনুগ্রহের
দৃষ্টিতে দেখবেন না।
৩, সে চির কালের জন্য দোযখী হইয়া নিজের কৃতকর্মের ফল ভোগ করতে থাকবে।
★★হে আল্লাহ, আমাদের সবাইকে পাঁচওয়াক্ত নামাজ যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন আর আমাদের সবাইকে এইসব ভয়ংকর আজাব থেকে রক্ষা করুন, এবং আমাদের সবাইকে বিনা হিসাবে জান্নাত নসীব করুন।
★★★জেনে নিন, নামাজে মনোযোগী না থাকার কারণগুলো -
→ সালাত আরবী শব্দ, বাংলায় নামাজ। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হলো নামাজ। নামাজ বান্দাকে আল্লাহর সান্নিধ্য পেতে সাহায্য করে। নামাজের মাধ্যমে পরিপূর্ণতা আসে। নামাজ বান্দাকে সুন্দর পথ দেখায়। নামাজের মাধ্যমে শারীরিক কসরত হয়। সুস্থ থাকতে বান্দাকে সাহায্য করে।
হাদীসে বলা হয়েছে, বান্দা যখন সিজদায় যায় তখন সে আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় হয়। কোরআনে প্রায় ৮২বার আল্লাহ নামাজ আদায় করার কথা বলেছেন। হাদীসে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) অনেক তাগিদ দিয়েছেন নামাজ আদায়ের ব্যাপারে।
নামাজ হলো এমন এক ইবাদত যা মুসলিম ও অমুসলিম এর মাঝে পার্থক্য করে দেয়। নামাজ মানুষকে সব প্রকার পাপ কর্ম থেকে দূরে রাখে। নামাজেই কেবলমাত্র মানুষের অন্তরকে শান্তি দিতে পারে।
কিন্তু নামাজ আদায় করতে গিয়ে আমাদের মধ্যে অনেকেরই মনোযোগ থাকে না। কল্পনার জগতে মানুষ বড়ই বেপরোয়া। নামাজে ইচ্ছা করেও ধরে রাখতে পারে না মনোযোগ।
নামাজ আদায় থেকে বিরত থাকলে বান্দা বিপথগামী হয়ে পড়ে। নিজেকে সংশোধনী থেকে বিরত রাখে। শয়তান বান্দাকে সে পথেই ধাবিত করতে থাকে।
নামাজে যতসব কল্পনা। অনেক কঠিন বিষয়ের সমাধান খুব সহজে চলে আসে নামাজে দাঁড়ালে। অনেক জটিল হিসাব খুব সহজে মিলে যায়। কেন সালাত (নামাজে) মন থাকে না তার বাস্তবসম্মত কিছু কারণ তুলে ধরা হলো। এসবের কারণ হতে পারে নিচের যেকোনো একটি বা একাধিক বিষয়ে।
১. সালাতকে নিছক ধর্মীয় অনুষ্ঠান মনে করা : কেবলমাত্র কিছু মুখস্ত সুরা, দোয়া, মন্ত্রের মত পাঠ করা। তারপর রুকু করা, সিজদাহ করা- এভাবে নামাজ শেষ করা। পুরো বিষয়টি কেমন যেন একটা যান্ত্রিকতা ও অনুষ্ঠানিকতা। সালাতের সাথে অন্তরের একটা যে যোগসাজশ আছে তা অনেকেরই উপলব্ধি হয় না।
২. সালাতকে যথাযথ মূল্যানয় না করা : দৈনন্দিন আর পাঁচটা কাজের মত মনে করা। অথচ দুনিয়া আখেরাতে কামিয়াবির একমাত্র উপাই।
৩. পাপ কাজে ডুবে থাকা : নিয়মিত সালাত আদায় করা সত্ত্বেও অনেক মুসল্লি আছেন যারা প্রকাশ্য ও নিয়মিত পাপে ডুবে থাকেন। মানুষ স্বভাবত যেসব করে তা তার সব সময় মনে থাকে। নামাজে সিনেমার কোনো অংশ মনে আশাটা অসম্ভব নয়। অনেকে আবার নাটক, সিনেমার, মাঝে মাঝে বিরতি বা অ্যাড দেয়ার সময় খুব তাড়াতাড়ি করে নামাজ সেরে ফেলেন।
৪. অর্থ না বোঝা : সালাত যেহেতু পুরোটাই আরবি ভাষায় তাই এর অর্থ আমরা সহজেই বুঝি না। অর্থ না বোঝার ফলে আমাদের মুখস্ত সুরাগুলো মুখে বলতে থাকি কিন্তু অলস অন্তর অন্য চিন্তায় ব্যস্ত থাকে। আর যদি বোঝা যেত তাহলে অন্তর সেটা নিয়ে ভাবতো।
৫. আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার বেশি মূল্যায়ন করা : আজকাল সবাই সাথে সাথে ফিড ব্যাক পাওয়ার চিন্তা বেশি করে। নামাজের ওয়াক্তে অন্য বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকে নামাজকে ভুলে। বিশেষ করে উপার্জনের ব্যাপারে ইসলামের তোয়াক্কা না করা।
৬. সালাতের হুকুম আহকাম ঠিকভাবে অনুসরণ না করা। রাসুলে কারীম (সা.) যেভাবে নামাজের নিয়ম দেখিয়েছেন তা সঠিকভাবে না মানা।
৭. শয়তানের ধোঁকা : যেহেতু সালাত সবচেয়ে বড় ইবাদত তাই এতে শয়তানের ধোঁকাও বেশি। শয়তান তার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে বান্দার সালাত নষ্টের কাজে নেমে পড়ে। কিছু শয়তানের এ ব্যাপারে কাজ ভাগ করে দেয়া থাকে। সালাতে এদিক ওদিক তাকানো এটাও শয়তানের প্রভাবের ফল।
৮. নিয়মিত কোরআন-হাদীস পাঠ না করা। কোরআন-হাদিস নিয়মিত পাঠ না করলে শয়তান বান্দাকে অন্যদিকে ধাবিত করে।
★নামাজের উপকারিতা অপরিসীম★
যখন আমরা সালাত আদায় করি,তখন আমরা শারীরিক ভাবে উপকৃত হই। তবে মুসলমানরা শুধু শারীরিক উপকারিতার জন্য সালাত আদায় করে না ।
এটা হলো বাড়তি উপকার। আমরা সালাত আদায় করি আল্লাহ সুবাহানাল্হ তায়ালার প্রশংসা করার জন্য । নামাজের এই সকল চিকিত্সা বিজ্ঞানের লাভ গুলো অবিশ্বাসী এবং যারা মুসলিম নয় তাদের আকর্যন করবে । কিন্তু আমাদের মূল উদ্দেশ্য আল্লাহুর সন্তষ্টি এবং নামাজের দ্বারা সঠিক পথ অর্জন করা ।
নামাজের মাঝে সিজদা করি। যখন আমরা সিজদায় যাই তখন আমাদের ব্রেনে অতিরিক্ত রক্ত প্রবাহিত হয় । এতে আমাদের ব্রেনের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় । যখন আমরা সিজদা করিতখন আমাদের মুখের চামড়ায় ও ঘাড়ে অতিরিক্ত রক্ত প্রবাহিত হয় এতে রক্ত প্রবাহের মাত্রা বেড়ে যায় । এটা শীতকালে আমাদের জন্য খুবই উপকারি ।আসলে এই নামাজের মাধ্যমে সমস্ত শরীরের চিকিত্সা হয় ।
কিছু লোক আছে আমাকে জিজ্ঞেসা করে যে, কিছু মুসলমান প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে কিন্তু তারা প্রতারক এবং অসত্ প্রকৃতির ও নীতিহিন লোক, তাহলে আপনি কি করে বলেন যে, Shalat is the programme towards righteousness- এই প্রশ্নের উওর সূরা আল-মুমিনন১-২ আয়াত। সে সকল বিশ্বাসীরা সফলকাম হয়েছে, যারা তাদের নামাজে বিনয়ীঁ । সুতরাং আল্লাহ বলেন, তারা সফলকাম হবে এবং প্রকৃতপক্ষে লাভবান হবে যারা মনোযোগ ও বিনয় সহকারে নামাজ আদায় করবে, কিন্তু তারা লাভবান হবে না যারা মনোযোগ ও বিনয় ব্যতীত নামাজ আদায় করে । সুতরাং যে সকল মুসলমান নামাজ আদায় করার পরও অসত্ ও নীতিহীন, তারা মুলত মনোযোগ ও বিনয় সহকারে নামাজ আদায় করে না।
((((((((((((মোঃনাঈম নওরোজ))))))))))))
Monday, 23 February 2015
ইসলামী বিধান অনুযায়ী ঘুমানোর নিয়ম ও দোয়া সমূহ -
ইসলামী বিধান অনুযায়ী ঘুমানোর নিয়ম ও দোয়া সমূহ -
রসুল (সা.) সব সময় ডান পাশ হয়ে ডান হাতের তালুর ওপর মুখমণ্ডলের অংশ বিশেষ (গাল) রেখে কিবলামুখী হয়ে শয়ন করতেন। এর কারণ অজানা নয়। বুকের বাম পাশে হৃৎপিণ্ডের অবস্থান। চিকিৎসকরা সব সময় হৃৎপিণ্ডের ওপর চাপ প্রয়োগে নিষেধ করেছেন। সুতরাং কেউ বাম পাশ হয়ে শয়ন করলে স্বাভাবিকভাবেই তার হৃৎপিণ্ডের ওপর চাপ পড়বে। রসুল (সা.) ঘুমানোর আগে এক খণ্ড বস্ত্র দিয়ে তিনবার তার বিছানা পরিষ্কার করে নিতেন যাতে কোনো বিষাক্ত পোকামাকড় তাকে কামড়ানোর সুযোগ না পায়। আমাদের আজ ভাবতে অবাক লাগে ১৪০০ বছর আগে যখন আধুনিক কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল না তখনকার সময়ে উম্মি নবী (সা.) আমাদের ঘুমানোর আদর্শ পদ্ধতি বাতলে গেছেন। তাঁর উপদেশ ছিল প্রজ্ঞাময় ও রহমতস্বরূপ। রসুল (সা.) এশার নামাজের পর তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যেতেন এবং রাতের শেষভাগে উঠে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতেন। আবু হুরায়রা (রা)-এর মতে, ‘রসুল (সা.) এশার নামাজের পর ঘুমাতে পছন্দ করতেন। তিনি এশার পর কথা বলা পছন্দ করতেন না।’ দুর্ভাগ্য, আমাদের দেশের শহরের লোকেরা গভীর রাত পর্যন্ত টিভি দেখে ঘুমাতে যায়, তাদের অনেকেই সূর্য ওঠার আগে ফজরের নামাজই পড়তে পারে না। এশার নামাজ জামাতে পড়ার পর ফজরের নামাজও জামাতে পড়া হলে সারা রাতই নামাজে কেটেছে ধরে নেওয়া হয়। রসুল (সা.) সূর্য ওঠার পর ঘুমানোকে রিজিকের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করতেন। দিন কাজের জন্য আর রাত বিশ্রাম বা আরামের জন্য, রাত নতুন করে শক্তি সঞ্চয়ের জন্য। সময় থাকা সাপেক্ষে দিনের বেলায় দুপুরের আহারের পর একটু বিশ্রাম (কায়লুলাহ) করে নেওয়া যায়। এটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এর ফলে রাতের বেলায় আল্লাহর ইবাদতে যে কষ্ট হয় তা লাঘব হয়। এর জন্য গভীর ঘুমের প্রয়োজন হয় না। এর জন্য শুধু বিছানায় শুয়ে একটু বিশ্রাম নিলেই চলে। সাহল ইবন সা’দ (রা) বলেন, ‘আমরা কায়লুলাহ করতাম আর জুমার নামাজের পর আহার করতাম।’ আসলে যারা রাতে ঘুমায় না তারা অজ্ঞ ছাড়া কিছুই নয়। রসুল (সা.) ঘুমাতে যাওয়ার আগে দোয়া করতেন, ‘হে আল্লাহ! আমাকে তোমার শাস্তি হতে রক্ষা কর যেদিন তুমি তোমার বান্দাদের একসাথ করবে বা তোমার বান্দাদের জীবিত করে উঠাবে।’ চিকিৎসা বিজ্ঞানও অতিরিক্ত রাত জাগার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাই আসুন আমরা ইসলামী বিধানের আলোকে ঘুমানোর অভ্যাস করি।মহানবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কিছু দোয়া পড়তে বলছেন যা পড়ার ফজিলত অনেক। আসুন আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ন দোয়া জেনে নিই।
ঘুমাতে যাওয়ার সময় দোয়া
আসতাগফিরুল লাহাল লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাই’য়ুল কাই’ইয়ু’মু ওয়া আতুবু ইলাহ
রাসূলে পাক বলেছেন, যে ব্যাক্তি ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই দোয়া তিনবার পড়ে ঘুমাবে সে ঘুম থেকে নিষ্পাপ হয়ে উঠবে।
ঘুম থেকে উঠার পরে দোয়া
আলহামদুলিল্লাহিল লাজি আহইয়া নাফছি বা’দা মা আমাতাহা ওয়া ইলাইহিন নুশুর
রাসূল ঘুম থেকে উঠেই এই দোয়া পড়তেন। এই দোয়া পড়লে সারাদিন ভালো কাটবে।
টয়লেটে যাওয়ার আগে দোয়া
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল খুবথি ওয়াল খাবায়ি’থ
এই দোয়া পড়ে রাসূল টয়লেটে ঢুকতেন। টয়লেটে ঢুকার আগে এই দোয়া পড়তে বলেছেন।
ঘর থেকে বের হওয়ার সময়ের দোয়া
বিসমিল্লাহি তাওয়াক’কালতু আলাল্লাহি ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কু’ওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
রাসূল বলেছেন যে ব্যাক্তি এই দোয়া পড়ে ঘর থেকে বেরোবে সকল বিপদ থেকে সে নিরাপদে থাকবে ও ইবলিশ শয়তান তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।
দেনাগ্রস্থতা থেকে মুক্তির দোয়া
আল্লাহুম্মা আকফিনি বি হালালিকা আ’ন হারামিকা আগনিনি বি ফাদলিকা আম্মান সিওয়াকা
হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন, যে ব্যাক্তি এই দোয়া পড়বে সে যদি পাহাড়ের সমানও দেনাগ্রস্থ হয়ে থাকে তবুও তার জন্য দেনা পরিশোধ সহজ করে দেয়া হবে।
প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে হেফাজতে থাকার দোয়া
বিসমিল্লাহিল লাজি লা ইয়াদূর’রু মা’আস মিহি শাইয়ুন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামি’ই ওয়াহুয়া সামি’য়ুল আলিম
রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি এই দোয়া তিনবার পড়বে সে ভূমি ও আকাশের দূর্যোগ থেকে হেফাজতে থাকবে।
রোগ থেকে দ্রুত আরোগ্য প্রাপ্তির দোয়া
আল্লাহুম্মা রাব্বান নাছি মুযহিবাল বাছি – ইশফি আনতা শাফি – লা শাফি ইল্লা আনতা শিফা’ন লা ইয়োগাদিরু সুকমা
আনাস (রাঃ) বলেছেন, রাসূল (সাঃ) অসুস্থ ব্যাক্তিদের উপর এই দোয়া পড়ে ফু দিতেন। অসুস্থ ব্যাক্তি দ্রুত আরোগ্য লাভ করতো।
ব্যাথা উপশমের দোয়া
আউযুবি ইজ্জাতিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহি মিন শার’রি মা আজিদু
হযরত উসমান (রাঃ) একবার ব্যাথার যন্ত্রনায় কাতড়াচ্ছিলেন। রাসূল বললেন, আপনি ডান হাত দিয়ে ব্যাথার স্থান বুলানোর সময় এই দোয়া সাতবার পড়ুন। ব্যাথা ধীরে ধীরে কমে যাবে।