Wap4dollar.com

Saturday, 29 July 2017

★★★ শাহজালাল (রহ.)এর ধর্ম প্রচার =>

শাহজালাল (রহ.)এর ধর্ম প্রচার -

১৪ শতাব্দীতে যেসব অলি-আউলিয়ারা বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারে ভূমিকা রেখেছেন তাদের একজন হলেন হযরত শাহজালাল ইয়েমেনী (রহ.)।

ভারত উপমহাদেশে খাজা মইনুদ্দীন চিশতী (রহ.)এর পরে এই ভূখণ্ডে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন হযরত শাহ্জালাল ইয়েমেনী (রহ.)।

বাংলাদেশ আসাম তথা বৃহত্তর বঙ্গ ইসলামের আলোকে আলোকিত করার ক্ষেত্রে যাঁর নাম সবচেয়ে উজ্জ্বল এবং এদেশের সূফি, দরবেশ, আউলিয়াগণের মাঝে যাঁর প্রভাব ও মর্যাদা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায় তিনি সুলতানে বাংলা, হযরত শাহ্জালাল মুজাররদ ইয়েমেনী রহমাতুল্লাহি আলাইহি।

নামঃ হযরত শাহ্জালাল মুজাররদ ইয়েমেনী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এঁর পূর্ণ নাম জালালুদ্দীন জালালুল্লাহ্। আপামর জনসাধারণের মাঝে প্রচলিত নাম হযরত শাহ্জালাল (রহ.)।

জন্ম ও বংশ পরিচিতি: ইবনে বতুতার বর্ণনা অনুসারে গবেষকগণের মতে হযরত শাহ্জালাল ইয়েমেনী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ৭৪৬ হিজরী সনে ১৯শে জিলক্বদ ওফাত (ইন্তেকাল) বরণ করেন। সে মতে তাঁর ১৫০ বছর জীবনকাল ধরে জন্ম সাল হয় ৭৪৬-১৫০= ৫৯৬ হিজরী। তাঁর জন্মস্থান হল ইয়েমেনের তাইজ নগরীর কুন্যা নামক স্থানে।

শিক্ষাঃ হযরত শাহ্জালাল ইয়েমেনী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর বাবা-মা শৈশবেই মারা যান। তখন তাঁর লালন-পালন ও শিক্ষা-দীক্ষার ভার গ্রহণ করেন তাঁর বুযুর্গ মামা সৈয়দ আহ্মদ কবির সোহরাওয়ার্দী রহমাতুল্লাহি আলাইহি।

তিনি সোহরাওয়ার্দী ত্বরিকার একজন প্রখ্যাত সুফি দরবেশ এবং মক্কার বিশিষ্ট আলেম ছিলেন। হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর শিক্ষা সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় না।

তবে পর্যটক ইবনে বতুতার বর্ণনায় হযরত শাহ্জালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি কে তাঁর মুরিদ কর্তৃক মাওলানা সম্বোধন থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে তিনি বিদ্যা শিক্ষায় শিক্ষিত একজন আলেম ছিলেন।

সিলেটের পথ ধরে বাংলায় আগমনঃ বিভিন্ন জীবনীকারগণের বৃত্তান্ত থেকে জানা যায় যে, হযরত শাহ্জালাল বাংলাদেশের সিলেটের আগমনের পূর্বে একটি স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্নের বৃত্তান্ত পীর মুর্শিদ ও মামা সৈয়দ আহ্মদ কবীর সোহ্রাওয়ার্দী এবং সংগীয় পীর বাহাউদ্দীন সোহ্রাওয়ার্দীর নিকট বর্ণনা করেন।

স্বপ্নের বৃত্তান্ত শুনে অবিলম্বে হিন্দুস্তান যাত্রার আদেশ দেন। স্বপ্নের ইঙ্গিত মতে মুর্শিদ একমুষ্ঠি মাটি তাঁর হাতে দিয়ে বলেন, এই মাটির বর্ণ, গন্ধ ও স্বাদ যেখানে পাইবে সেখানেই তুমি অবস্থান ঠিক করিবে।

তিনি আরও বললেন, এই মৃত্তিকা মুষ্ঠি যে স্থানে পরিত্যাগ করিবে সে স্থানের মহত্ত্বের আর তুলনা থাকিবে না। পীরের নির্দেশের পর হযরত শাহ্জালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি বাংলাদেশে আসার আগে জন্মভূমি ইয়েমেন গমন করেন।

সেখানে পূর্বপুরুষ ও মাতা-পিতার মাযার যিয়ারত করেন এবং উলুহিয়াতের তত্ত্ব প্রচার করেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও গুণে আকৃষ্ট হয়ে দলে দলে লোক তাঁর দিকে ধাবিত হয়। এতে ইয়েমেনরাজ ঈর্ষান্বিত হয়ে হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি কে বিষ মিশ্রিত শরবত দ্বারা কামালত পরীক্ষা করতে চাইলেন।

হযরত শাহ্জালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি বিষ মিশ্রিত শরবত বিসিমল্লাহ বলে পান করলে সে বিষের প্রতিক্রিয়ায় উল্টো ইয়েমেন রাজই মৃত্যুবরণ করে। ইয়েমেনের পরবর্তী রাজা শাহ্জাদা আলী পিতার মৃত্যু এবং শাহ জালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর অলৌকিক ঘটনা দেখে তাঁর ভক্তে পরিণত হন এবং শাসকের সিংহাসনে না বসে শায়খ শাহ্জালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর সাথী হতে চাইলেন কিন্তু হযরত শাহ্জালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাকে রাজ্য পরিচালনার ভার দিয়ে ইয়েমেন হতে যাত্রা করেন।

ইয়েমেন হতে হযরত শাহ্জালাল বাগদাদ আসেন। সিলেট বিজয় সুলতান শামসুদ্দীন ফিরোজ শাহের আমলে ৭০৩ হিজরীতে শাহ্জালাল ইয়েমেনী আধ্যাত্মিক শক্তির সাহায্যে সিলেট বিজয় করেন।

বর্ণিত আছে যে, গৌড় গোবিন্দ কর্তৃক শেখ বুরহানুদ্দীনের শিশু পুত্র হত্যার প্রতিবিধানার্থে প্রেরিত সিকান্দার গাজীর বাহিনী গৌড় গোবিন্দের ঐন্দ্রজালিক ক্ষমতার কারণে বারবার পরাভুত হয়।

অবশেষে হযরত শাহ্জালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও তাঁর অনুসারী ৩৬০ আউলিয়া সহযোগে গৌড় গোবিন্দের ঐন্দ্রজালিক ক্ষমতাকে পরাভূত করে সিলেট বিজয় করা হয়।

ইন্তেকালঃ হযরত শাহজালাল (রহ.)এর মৃত্যুবরণের সঠিক তারিখ নিয়ে মতভেদ আছে। কিন্তু ইবনে বতুতার বর্ণনা অনুযায়ী তিনি ১৫০ বছর বয়সে ৭৪৭ হিজরি ১৩৪৭ সালে ওফাত গ্রহণ করেন বলে জানা যায়।

তিনি সিলেটেই সমাহিত হন এবং তাঁর সমাধিস্থল দরগা মহল্লা নামে পরিচিত।

★★★ ইসলামে পর্দার মর্যাদা★★★


পর্দা আল্লাহ্‌ এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এর আনুগত্য। কেননা তাঁদের আনুগত্য প্রতিটি নর-নারীর উপর ফরয করা হয়েছে।
আল্লাহ্‌ তা’আলা নারীদেরকে পর্দার নির্দেশ দিয়ে এরশাদ করেন:

“ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন সাধারণত: প্রকাশমান স্থান ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ
না করে।” (সূরা নূর- ৩১)

তিনি আরো বলেন:

“তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে- মূর্খতা যুগের অনুরূপ (বেপর্দা হয়ে) নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না।” (সূরা আহযাব- ৩৩)

আল্লাহ্‌ আরো বলেন,

“তোমরা তাঁর পত্নীগণের নিকট থেকে কোন কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের জন্য এবং তাঁদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ।” (সূরা আহযাব- ৫৩)

আল্লাহ্‌ আরো বলেন,

“হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না।” (সূরা আহযাব- ৫৯)

রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) বলেন:

“নারী গোপন বস্তু।”[50] অর্থাৎ- তাকে ঢেকে রাখতে হবে।

পর্দা নারীর পবিত্রতা:

আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন, “হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না।” (সূরা আহযাব- ৫৯) নারী নিজেকে ঢেকে রাখবে। এতে সে পূত-পবিত্রা সংরক্ষিতা থাকবে, আর তবেই তাকে কষ্ট দেয়া হবে না, ফাসেক বা খারাপ লোকেরা তাকে উত্যক্ত করতে সুযোগ পাবে না। এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, নারীর সৌন্দর্য অপরের কাছে প্রকাশ হলেই তাকে কষ্ট, ফিৎনা ও অকল্যাণের সম্মুখিন হতে হয়।

পর্দা নির্মলতা:

আল্লাহ্‌ বলেন, “তোমরা তাঁর পত্নীগণের নিকট থেকে কোন কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের জন্য এবং তাঁদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ।” (সূরা আহযাব- ৫৩)

এ আয়াতে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর স্ত্রীদের নিকট থেকে কোন কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইতে বলা হয়েছে; অথচ তাঁরা হচ্ছেন মুমিনদের সম্মানিত মাতা, পৃথিবীর তাবৎ নারীর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচাইতে অধিক পূত-পবিত্র। তাদের চাইতে অধিক পবিত্র এমন কোন নারী আছে কি যারা পর্দা না করে বলবে যে আমাদের অন্তর ঠিক আছে? আর অযৌক্তিক কথা বলবে ‘মনের পর্দা বড় পর্দা’?

এই আয়াতে পর্দাকে ঈমানদার নারী-পুরুষের হৃদয়ের পবিত্রতার কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কেননা চক্ষু যখন অবলকণ করে; হৃদয় তখন কামনা করে। আর এজন্যই দৃষ্টিপাত না করাটা হৃদয়ের পরিশুদ্ধতার কারণ এবং ফিৎনা থেকে বেঁচে থাকার সুস্পষ্ট মাধ্যম। কেননা পর্দার মাধ্যমে দুর্বল অন্তরের মানুষদের কুপ্রবৃত্তিকে বিনষ্ট করে দেয়া হয়। আল্লাহ্‌ বলেন,

“যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করে থাক, তবে পরপুরুষের সাথে নম্র ও আকর্ষনীয় ভঙ্গিতে কথা বলবে না। এতে দুবর্ল হৃদয়ের লোকদের অন্তরে লালচ (কুবাসনা) সৃষ্টি হবে।” (সূরা আহযাব- ৩২)

পর্দা নারীর আবরণ:

রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: “নিশ্চয় আল্লাহ্‌ লজ্জাশীল গোপনকারী। তিনি লজ্জা ও গোপনীয়তা পসন্দ করেন।” (নাসাঈ) তিনি আরো বলেন: “যে নারী নিজ গৃহ ব্যতীত অন্যের গৃহে গিয়ে স্বীয় পোষক খুলবে, সে আল্লাহ্‌ ও তার মাঝের পর্দা ছিঁড়ে ফেলবে।”[51]

পর্দা হল ঈমান:

আল্লাহ্‌ তা’আলা ঈমানদার নারী ব্যতীত কাউকে পর্দার নির্দেশ দেন নি। এজন্যই তিনি বলেছেন: “আপনি মুমিন নারীদেরকে বলুন!...”।
একদা বনূ তামীম গোত্রের কতিপয় নারী উম্মুল মুমেনীন আয়েশা (রা:) এর নিকট আগমণ করে, তাদের পরিধানে ছিল খুবই পাতলা পোষাক। তা দেখে আয়েশা (রাঃ) বললেন, ‘তোমরা যদি মুমেনা হয়ে থাক, তবে এটা ঈমানদার নারীর পোষাক নয়।’

Tuesday, 4 July 2017

★★★ঢাকায় মেয়েদের নামাজের স্থান -


প্রশ্ন ৩ --> ঢাকায় মেয়েদের
নামাজের ব্যবস্থা আছে কোন কোন
মসজিদে?
উত্তরঃ
যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর। দরুদ ও
সালাম আল্লাহর রাসূল (সা) এর উপর। পরম
করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
শুরু করছি।
আমরা এ পর্যন্ত যেটুকু তথ্য পেয়েছি
সেটা অনুযায়ী নিচের মসজিদগুলোতে
মেয়েদের নামাজের ব্যবস্থা আছে।
১. ঢাকা নিউ মার্কেট মসজিদ
২. রাইফেলস স্কয়ার (জিগাতলা)
৩. ইস্টার্ন মল্লিকার ছাদে
৪. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয়
মসজিদ
৫. রাপা প্লাজার ৫ম তলায় জয়ীতার
শো-রুম ও মার্কেটের ছাদ (ধানমন্ডি ২৭)
৬. সোবহানবাগ জামে মসজিদ
(ধানমন্ডি ২৭)
৭. গাউছিয়া মার্কেটের নিচ তলায়
(ধানমন্ডি হকারস এর উল্টোদিকে)
৮. চাঁদনি চকের ৩য় তলায়
(নিউমার্কেটের উল্টোদিকে)
৯. তাকওয়া মসজিদ (ধানমন্ডি ১২/এ
লেকের সাথে)
১০. বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স, পান্থপথ
(৪র্থ তলায়)
১১. বায়তুল মামুর মসজিদ, সায়েন্সল্যাব
(২য় তলা)
১২. ফেরদৌসি মসজিদ, মিরপুর-১
১৩. মৌচাক মার্কেট (৪র্থ তলা)
১৪. জেনেটিক প্লাজা ১ম তলা
(ধানমন্ডি ২৭)
১৫. বায়তুল আমান মসজিদ (ধানমন্ডি ৮)
১৬. উত্তরা ৪ নং, ৬ নং, ৭ নং সেক্টর
মসজিদ
১৭. স্কয়ার হসপিটাল
১৮. ডিসিসি সুপার মার্কেট (গুলশান ১)
১৯. উত্তরা হাউস বিল্ডিং, নর্থ
টাওয়ার (মার্কেট) ৯বম তলা
২০.রমনা থানা জামে মসজিদ
২১. ইউনাইটেড হসপিটাল (৩য় তলা)
২২. এপলো হসপিটাল (৫ম তলা)
২৩. পিঙ্ক সিটি (বেইজমেন্ট)
২৪. মোহাম্মদপুর এ স্যার সৈয়দ রোড এর
আল আমিন মসজিদ
২৫. আযাদ মসজিদ (গুলশান ২)
২৬. নায়েম ভবন মসজিদ (ঢাকা কলেজের
পেছনে)
২৭. ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক হসপিটাল
(১.৫ তলা)
২৮. টুইন টাওয়ার শপিং সেন্টার (৪র্থ
তলা)
এছাড়াও আরও অনেক মসজিদ থাকতে
পারে যেখানে মেয়েদের জামাতের
সুযোগ আছে।

Monday, 3 July 2017

★ কিছু বানী ★

✍ অভিনয় করে ভালোবাসতে যেও না করণ অভিনয় তোমার সত্যিকার ভালোবাসার মৃত্যু ঘটাবে
.
✍ নিরাশা গ্রস্ত হয়ো না কারণ নিরাশা তোমার আশাকে দুর্বল করে দিবে
.
✍ পাপ কাজে লিপ্ত হয়ো না কারণ পাপ তোমার পূণ্য কে ধ্বংস করে দিবে
.
✍ মা বাবাকে অবহেলা করো না কারণ অবহেলা আয়নার প্রতিবিম্বের মতোই সন্তান দ্বারা ফিরে আসবে
.
✍ স্ত্রীর উপর অত্যাচার করো না কারণ সেই অত্যাচার তোমার মেয়ের দিকেই ধাবিত হবে ।
.
✍ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে অলিক স্বপ্ন দেখো না কারণ অলিক স্বপ্ন তোমার ইচ্ছা শক্তি কে ধ্বংস করে দিবে
.
✍ নিজের প্রতি অবিচার করো না কারণ নিজের প্রতি অবিচার তোমার দাম্পত্য জীবনে কলহ ডেকে আনবে ।
.
✍ নিজের প্রয়োজনে মিথ্যা কথা বলো না কারণ মিথ্যা তোমার সত্য কে ধ্বংস করে দিবে ।

naimnourose.blogspot.com
.
✍ কারো অগচরে বদনাম করো না কারণ সেই বদনামই তোমার উপর অন্যের দ্বারা বর্ষিত হবে।
.
✍ সুদ এবং ঘুষ খেয়ো না কারণ এ গুলো তোমার অন্তর কে কুলোশিত করে দিবে ।
.
✍ কারো উপর অন্যায় অবিচার করো না কারণ সেই অবিচার শেষ বিচারে তোমার বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবে ।
.
✍ দরিদ্র কে তিরস্কার করো না কারণ দরিদ্রের অভিশাপ তোমার সম্পদ কে ধ্বংশ করে দিবে ।
.
✍ মনুষ্যত্ব কে বিসর্জন দিও না কারণ মনুষ্যত্বের মানুষ হারিয়ে গেলে তুমি পশুতে রুপান্তরিত হবে ।
.
✍ অতিরিক্ত চাহিদা করো না কারণ অতিরিক্ত চাহিদা তোমাকে অসুখী করে তুলবে ।
.
✍ বিয়ের আগে অন্য নারী কে ভোগ করো না কারণ তোমার ভবিষ্যৎ স্ত্রী ও অন্যের দ্বারা ভোগের স্বীকার হবে ।

Thursday, 29 June 2017

সহবাস সম্পর্কিত কিছু করণীয় :


সহবাসকালে কিছু করণীয় রয়েছে, যা পালন করা প্রত্যেক নারী- পুরুষের জন্য কর্তব্য।

(১) সহবাসকালে দো‘আ পাঠ করা : সহবাসের
সময়
রাসূল (ছাঃ) নিম্নোক্ত দো‘আ পাঠ করতে
বলেছেন, ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺟَﻨِّﺒْﻨَﺎ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥَ ﻭَﺟَﻨِّﺐِ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥَ ﻣَﺎ
ﺭَﺯَﻗْﺘَﻨَﺎ - উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লা-হি আল্লা-হুম্মা
জান্নিবনাশ
শায়তা-না ও জান্নিবিশ শায়তানা মা
রাযাকতানা’। অর্থ:
‘আল্লাহর নামে শুরু করছি। হে আল্লাহ!
আমাদেরকে শয়তানের প্রভাব থেকে দূরে
রাখুন এবং আমাদের যে সন্তান দান করবেন
তাদেরকে শয়তানের প্রভাব থেকে বাঁচিয়ে
রাখুন’।[1] এ দো‘আ পাঠ করার পরে সহবাস করলে
আল্লাহ যদি ঐ স্বামী-স্ত্রীকে কোন সন্তান
দান করেন, তাহ’লে শয়তান সন্তানের কোন
ক্ষতি করতে পারবে না।[2]
সহবাসের ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রীর
সম্মুখভাগে যে দিক দিয়ে ইচ্ছা সহবাস করতে
পারে। আল্লাহ বলেন, ﻧِﺴَﺎﺅُﻛُﻢْ ﺣَﺮْﺙٌ ﻟَﻜُﻢْ ﻓَﺄْﺗُﻮْﺍ ﺣَﺮْﺛَﻜُﻢْ ﺃَﻧَّﻰ
ﺷِﺌْﺘُﻢْ ‘তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য
শস্যক্ষেত স্বরূপ। অতএব তোমরা তোমাদের
শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা আগমন
কর’ (বাক্বারাহ ২/২২৩)।
উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন, মুহাজিরগণ
মদীনায় এসে
আনছার মহিলাদের বিবাহ করলেন। মুহাজির
মহিলারা চিৎ
হয়ে শয়ন করত। কিন্তু আনছার মহিলারা চিৎ হয়ে
শয়ন করত না। একদা এক মুহাজির ব্যক্তি তার
আনছার
স্ত্রীকে এরূপ করার ইচ্ছা করলে সে রাসূল
(ছাঃ)-
কে জিজ্ঞেস না করে তা করতে অস্বীকৃতি
জানাল। উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন, সে
মহিলা রাসূল (ছাঃ)-
এর নিকট আসল, কিন্তু তাঁকে জিজ্ঞেস করতে
লজ্জাবোধ করল। তাই উম্মু সালামা (রাঃ)
তাঁকে
জিজ্ঞেস করলেন। অতঃপর ﻧِﺴَﺎﺅُﻛُﻢْ ﺣَﺮْﺙٌ ﻟَﻜُﻢْ ﻓَﺄْﺗُﻮْﺍ ﺣَﺮْﺛَﻜُﻢْ
ﺃَﻧَّﻰ ﺷِﺌْﺘُﻢْ ‘তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য
শস্যক্ষেত স্বরূপ। অতএব তোমরা তোমাদের
শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা আগমন
কর’ (বাক্বারাহ ২/২২৩) আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।
রাসূল
(ছাঃ) বললেন, না, শুধুমাত্র একই রাস্তায়
সহবাস করা
যাবে’।[3] অন্যত্র রাসূল (ছাঃ) বলেন, ﺍﺋْﺘِﻬَﺎ ﻣُﻘْﺒِﻠَﺔً،
ﻭَﻣُﺪْﺑِﺮَﺓً
ﺇِﺫَﺍ ﻛَﺎﻥَ ﺫَﻟِﻚَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻔَﺮْﺝِ - ‘তার নিকটে আস, সম্মুখ ও পিছন
উভয় দিক দিয়ে, যদি তা লজ্জাস্থান হয়’।[4] তিনি
আরো বলেন, ﺃَﻗْﺒِﻞْ ﻭَﺃَﺩْﺑِﺮْ ﻭَﺍﺗَّﻖِ ﺍﻟﺪُّﺑُﺮَ ﻭَﺍﻟْﺤِﻴْﻀَﺔَ . ‘সামনে
কর, পিছনে কর এবং পায়ুপথ ও ঋতুস্রাব থেকে
বেঁচে থাক’।[5]
(২) নিষিদ্ধ স্থানে সহবাস না করা : স্ত্রীর
পায়ুপথে
সহবাস করা নিষিদ্ধ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ﻻَ ﻳَﻨْﻈُﺮُ
ﺍﻟﻠﻪُ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺟُﻞٍ
ﻳَﺄْﺗِﻲ ﺍﻣْﺮﺃَﺗَﻪُ ﻓِﻲْ ﺩُﺑُﺮِﻫَﺎ - ‘আল্লাহ ঐ ব্যক্তির দিকে
তাকাবেন না যে তার স্ত্রীর পায়ুপথে সহবাস
করে’।[6] তিনি আরো বলেন, ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﻻَ ﻳَﺴْﺘَﺤْﻴِﻰ ﻣِﻦَ
ﺍﻟْﺤَﻖِّ . ﺛَﻼَﺙَ ﻣَﺮَّﺍﺕٍ، ﻻَ ﺗَﺄْﺗُﻮﺍ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀَ ﻓِﻰ ﺃَﺩْﺑَﺎﺭِﻫِﻦَّ . ‘নিশ্চয়ই
আল্লাহ
হকের ব্যাপারে লজ্জাবোধ করেন না। কথাটি
তিনি
তিনবার বলেছেন। তোমরা মহিলাদের পায়ুপথে
সহবাস কর না’।[7]
মহিলাদের পায়ুপথ ব্যবহার করাকে হারাম করা
হয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ﺇِﺗْﻴَﺎﻥُ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀِ ﻓِﻰْ ﺃَﺩْﺑَﺎﺭِﻫِﻦَّ ﺣَﺮَﺍﻡٌ
‘নারীদের পিছন দিয়ে সহবাস করা হরাম’।[8]
অন্যত্র তিনি বলেন, ﺇﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﻳَﻨْﻬَﺎﻛُﻢْ ﺃَﻥْ ﺗَﺄْﺗُﻮﺍ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀَ ﻓِﻲْ ﺃَﺩْﺑَﺎﺭِﻫِﻦَّ
- ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ
করেছেন তোমাদের স্ত্রীদের পায়ুপথ
ব্যবহার করতে’।[9]
(৩) নিষিদ্ধ সময়ে সহবাস না করা : ঋতু অবস্থায়
স্ত্রীর সাথে সহবাস করা হারাম। আল্লাহ
বলেন,
ﻭَﻳَﺴْﺄَﻝُﻭﻧَﻚَ ﻋَﻦِ ﺍﻟْﻤَﺤِﻴْﺾِ ﻗُﻞْ ﻫُﻮَ ﺃَﺫًﻯ ﻓَﺎﻋْﺘَﺰِﻟُﻮﺍ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﺤِﻴْﺾِ ﻭَﻻَ
ﺗَﻘْﺮَﺑُﻮْﻫُﻦَّ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﻄْﻬُﺮْﻥَ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺗَﻄَﻬَّﺮْﻥَ ﻓَﺄْﺗُﻮْﻫُﻦَّ ﻣِﻦْ ﺣَﻴْﺚُ ﺃَﻣَﺮَﻛُﻢُ ﺍﻟﻠﻪُ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ
ﻳُﺤِﺐُّ ﺍﻟﺘَّﻮَّﺍﺑِﻴْﻦَ ﻭَﻳُﺤِﺐُّ ﺍﻟْﻤُﺘَﻄَﻬِّﺮِﻱ ْﻥَ - ‘আর লোকেরা
তোমাকে প্রশ্ন করছে মহিলাদের ঋতুস্রাব
সম্পর্কে। তুমি বল, ওটা হ’ল কষ্টদায়ক বস্ত্ত।
অতএব ঋতুকালে স্ত্রীসঙ্গ হ’তে বিরত থাক।
পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হয়ো
না। অতঃপর যখন তারা ভালভাবে পবিত্র হবে,
তখন
আল্লাহর নির্দেশ মতে তোমরা তাদের নিকট
গমন কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবাকারীদের
ভালবাসেন ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের
ভালবাসেন’ (বাক্বারাহ ২/২২২)।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ﻣَﻦْ ﺃَﺗَﻰ ﺣَﺎﺋِﻀًﺎ ﺃَﻭِ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓً ﻓِﻰْ
ﺩُﺑُﺮِﻫَﺎ ﺃَﻭْ
ﻛَﺎﻫِﻨًﺎ ﻓَﺼَﺪَّﻗَﻪُ ﺑِﻤَﺎ ﻳَﻘُﻮْﻝُ ﻓَﻘَﺪْ ﻛَﻔَﺮَ ﺑِﻤَﺎ ﺃُﻧْﺰِﻝَ ﻋَﻠَﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ - ‘যে ব্যক্তি
কোন ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে কিংবা তার
পায়ুপথে সঙ্গম করে অথবা গণকের কাছে যায়
এবং
তার কথা বিশ্বাস করে, সে মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর
প্রতি যা
অবতীর্ণ হয়েছে তা অস্বীকার করল’।[10]
উল্লেখ্য, ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস
ব্যতীত সবকিছু বৈধ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ﺟَﺎﻣِﻌُﻮْﻩَّﻥُ
ﻓِﻰ
ﺍﻟْﺒُﻴُﻮْﺕِ ﻭَﺍﺻْﻨَﻌُﻮْﺍ ﻛُﻞَّ ﺷَﻰْﺀٍ ﻏَﻴْﺮَ ﺍﻟﻨِّﻜَﺎﺡِ - ‘তোমরা তাদের
সাথে (তাদের হায়েয অবস্থায়) একই ঘরে
অবস্থান ও অন্যান্য কাজ করতে পার শুধু সহবাস
ছাড়া’।
[11]
আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমাদের কেউ হায়েয
অবস্থায় থাকলে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) তার
সাথে
মিশামিশি করতে চাইলে তাকে হায়েযে
শক্তভাবে ইযার পরার নির্দেশ দিতেন। তারপর
তার
সাথে মিশামিশি করতেন’।[12] অন্য বর্ণনায় আছে,
ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛَﺎﻥَ ﺇِﺫَﺍ ﺃَﺭَﺍﺩَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺤَﺎﺋِﺾِ ﺷَﻴْﺌًﺎ ﺃَﻟْﻘَﻰ ﻋَﻠَﻰ
ﻓَﺮْﺟِﻬَﺎ ﺛَﻮْﺑًﺎ . ‘নবী করীম (ছাঃ) তাঁর ঋতুবতী
স্ত্রীর সাথে কিছু করতে চাইলে স্ত্রীর
লজ্জাস্থানের উপর কাপড় রেখে তারপর
করতেন’।[13]
স্ত্রী হায়েয থেকে পবিত্র হ’লে তার সাথে
সহবাস করা বৈধ। আল্লাহ বলেন, ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺗَﻄَﻬَّﺮْﻥَ ﻓَﺄْﺗُﻮْﻫُﻦَّ
ﻣِﻦْ
ﺣَﻴْﺚُ ﺃَﻣَﺮَﻛُﻢُ ﺍﻟﻠﻪُ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﻳُﺤِﺐُّ ﺍﻟﺘَّﻮَّﺍﺑِﻴْﻦَ ﻭَﻳُﺤِﺐُّ ﺍﻟْﻤُﺘَﻄَﻬِّﺮِﻱ ْﻥَ- ‘অতঃপর
যখন তারা ভালভাবে পবিত্র হবে, তখন
আল্লাহর
নির্দেশ মতে তোমরা তাদের নিকট গমন কর।
নিশ্চয় আল্লাহ তওবাকারীদের ভালবাসেন ও
পবিত্রতা অর্জনকারীদের
ভালবাসেন’ (বাক্বারাহ
২/২২২)।
ঋতুকালে স্ত্রীর সাথে সহবাস করলে
কাফফারা
দিতে হবে। নবী করীম (ছাঃ) এমন ব্যক্তি
সম্পর্কে বলেন, ﺍﻟَّﺬِﻱْ ﻳَﺄْﺗِﻲْ ﺍﻣْﺮَﺃَﺗَﻪُ ﻭَﻫِﻰَ ﺣَﺎﺋِﺾٌ ﻗَﺎﻝَ ﻳَﺘَﺼَﺪَّﻕُ
ﺑِﺪِﻳْﻨَﺎﺭٍ ﺃَﻭْ ﻧِﺼْﻒِ ﺩِﻳْﻨَﺎﺭٍ - ‘যে ব্যক্তি ঋতুবতী স্ত্রীর
সাথে সহবাস করে, সে যেন এক অথবা অর্ধ
দীনার ছাদাকা করে’।[14]
উল্লেখ্য যে, ১ ভরি সমান ১১.৬৬ গ্রাম। হাদীছে
বর্ণিত এক দীনার সমান ৪.২৫ গ্রাম স্বর্ণ। আর
অর্ধ দীনার সমান ২.১২৫ গ্রাম স্বর্ণ।
(৪) সহবাসের পর ওযূ করা : সহবাসের পরে
ঘুমাতে ও পানাহার করতে চাইলে কিংবা
পুনরায় মিলিত
হ’তে চাইলে মাঝে ওযূ করা সুন্নাত।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)
বলেন, ﺛَﻼَﺛَﺔٌ ﻻَ ﺗَﻘْﺮَﺑُﻬُﻢُ ﺍﻟْﻤَﻼَﺋِﻜَﺔُ ﺟِﻴْﻔَﺔُ ﺍﻟْﻜَﺎﻓِﺮِ ﻭَﺍﻟْﻤُﺘَﻀَﻤِّﺦُ ﺑِﺎﻟْﺨَﻠُﻮْﻕِ
ﻭَﺍﻟْﺠُﻨُﺐُ ﺇِﻻَّ ﺃَﻥْ ﻳَﺘَﻮَﺿَّﺄ -َ ‘তিন ব্যক্তির কাছে ফেরেশতা
আসে না; কাফের ব্যক্তির লাশ, জাফরান
ব্যবহারকারী এবং অপবিত্র ব্যক্তি যতক্ষণ না
সে ওযূ
করে’।[15]
আয়েশা (রাঃ) বলেন, ﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺇِﺫَﺍ
ﺃَﺭَﺍﺩَ
ﺃَﻥْ ﻳَﻨَﺎﻡَ ﻭَﻫْﻮَ ﺟُﻨُﺐٌ، ﻏَﺴَﻞَ ﻓَﺮْﺟَﻪُ، ﻭَﺗَﻮَﺿَّﺄَ ﻟِﻠﺼَّﻼَﺓِ . ‘নবী করীম
(ছাঃ) যখন অপবিত্র অবস্থায় ঘুমাতে ইচ্ছা
করতেন
তখন তিনি লজ্জাস্থান ধুয়ে ছালাতের ওযূর
ন্যায় ওযূ
করতেন’।[16]
আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর বলেন, ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব
(রাঃ) আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-কে বললেন, যদি
রাতে
কোন সময় তাঁর গোসল ফরয হয় (তখন কী
করতে হবে?) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁকে বললেন,
ওযূ
করবে, লজ্জাস্থান ধুয়ে নিবে তারপর ঘুমাবে।[17]
অন্যত্র তিনি বলেন, ﻧَﻌَﻢْ ﻟِﻴَﺘَﻮَﺿَّﺄْ ﺛُﻢَّ ﻟْﻴَﻨَﻢْ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﻐْﺘَﺴِﻞَ ﺇِﺫَﺍ ﺷَﺎﺀَ
‘হ্যাঁ সে যেন ওযূ করে। অতঃপর সে যেন ঘুমায়
এবং যখন চাইবে গোসল করবে’।[18] তিনি
আরো বলেন, ﻧَﻌَﻢْ ﻭَﻳَﺘَﻮَﺿَّﺄُ ﺇِﻥْ ﺷَﺎﺀَ ‘হ্যাঁ, যদি সে চায় ওযূ
করবে’।[19] উপরোক্ত হাদীছ সমূহ দ্বারা
প্রতীয়মান হয় যে, সহবাসের পরে ওযূ করা
আবশ্যিক নয় বরং সুন্নাত। যেমন আয়েশা (রাঃ)
বলেন, ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻨَﺎﻡُ ﻭَﻫُﻮَ ﺟُﻨُﺐٌ ﻣِﻦْ
ﻏَﻴْﺮِ ﺃَﻥْ ﻳَﻤَﺲَّ ﻣَﺎﺀً . ‘রাসূলুল্লাহ কোনরূপ পানি স্পর্শ
না
করেই নাপাক অবস্থায় ঘুমাতেন’।[20]
উল্লেখ্য, ওযূর পরিবর্তে তায়াম্মুম করাও যায়।
আয়েশা (রাঃ) বলেন, ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ
ﺇِﺫَﺍ
ﺃَﺟْﻨَﺐَ ﻓَﺄَﺭَﺍﺩَ ﺃَﻥْ ﻳَﻨَﺎﻡَ ﺗَﻮَﺿَّﺄَ ﺃﻭ ﺗَﻴَﻤَّﻢَ - ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)
যখন
অপবিত্র হ’তেন এবং ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন তখন
ওযূ করতেন বা তায়াম্মুম করতেন’।[21]
(৫) ঘুমের পূর্বে অপবিত্রতার গোসল করা উত্তম
: নিম্নোক্ত হাদীছ থেকে প্রতীয়মান হয়
যে, জানাবাতের পরে গোসল করা উত্তম।
আব্দুল্লাহ বিন কায়েস বলেন, আমি আয়েশা
(রাঃ)-
কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী করীম (ছাঃ) অপবিত্র
অবস্থায় কিরূপ করতেন? তিনি কি ঘুমের পূর্বে
গোসল করতেন, না গোসলের পূর্বে
ঘুমাতেন? আয়েশা (রাঃ) বলেন, ﻛُﻞُّ ﺫَﻟِﻚَ ﻗَﺪْ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻔْﻌَﻞُ
ﺭُﺑَّﻤَﺎ
ﺍﻏْﺘَﺴَﻞَ ﻓَﻨَﺎﻡَ ﻭَﺭُﺑَّﻤَﺎ ﺗَﻮَﺿَّﺄَ ﻓَﻨَﺎﻡَ . ﻗُﻠْﺖُ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﺍﻟَّﺬِﻯ ﺟَﻌَﻞَ ﻓِﻰ ﺍﻷَﻣْﺮِ
ﺳَﻌَﺔً . ‘তিনি উভয়টি করতেন। কখনো গোসল
করে ঘুমাতেন, আবার কখনো ওযূ করে
ঘুমাতেন। আমি বললাম, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র
আল্লাহর যিনি কর্মে প্রশস্ততা দান করেছেন’।
[22]
অন্য হাদীছে এসেছে, ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ
ﻃَﺎﻑَ ﺫَﺍﺕَ ﻳَﻮْﻡٍ ﻋَﻠَﻰ ﻧِﺴَﺎﺋِﻪِ ﻳَﻐْﺘَﺴِﻞُ ﻋِﻨْﺪَ ﻫَﺬِﻩِ ﻭَﻋِﻨْﺪَ ﻫَﺬِﻩِ ﻓَﻘُﻠْﺖُ : ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ
ﺍﻟﻠﻪِ ﺃَﻻَ ﺗَﺠْﻌَﻠُﻪُ ﻏُﺴْﻼً ﻭَﺍﺣِﺪًﺍ؟ ﻗَﺎﻝَ : ﻫَﺬَﺍ ﺃَﺯْﻛَﻰ ﻭَﺃَﻃْﻬَﺮُ ﻭَﺃَﻃْﻴَﺐُ .‘একদ
া নবী করীম (ছাঃ) তাঁর স্ত্রীদের সাথে
সহবাস
করলেন। তিনি এর কাছে গোসল করলেন এবং ওর
কাছেও গোসল করলেন। রাবী বলেন, আমি
তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি
তাকে
একটি গোসলে পরিণত করতে পারলেন না? তিনি
বললেন, এটা অধিকতর পরিচ্ছন্ন, অতি উত্তম ও
সর্বাধিক পবিত্রতা’।[23]
(৬) স্বামী-স্ত্রী এক সাথে গোসল করা :
স্বামী-স্ত্রীর একস্থানে একত্রে গোসল
করা বৈধ। আয়েশা (রাঃ) বলেন, ﻛُﻨْﺖُ ﺃَﻏْﺘَﺴِﻞُ ﺃَﻧَﺎ ﻭَﺭَﺳُﻮْﻝُ
ﺍﻟﻠﻪِ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣِﻦْ ﺇِﻧَﺎﺀٍ ﺑَﻴْﻨِﻰْ ﻭَﺑَﻴْﻨَﻪُ ﻭَﺍﺣِﺪٍ ﻓَﻴُﺒَﺎﺩِﺭُﻧِﻰْ ﺣَﺘَّﻰ ﺃَﻗُﻮﻝَ ﺩَﻉْ
ﻟِﻰْ ﺩَﻉْ ﻟِﻰْ . ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻭَﻫُﻤَﺎ ﺟُﻨُﺒَﺎﻥِ . ‘আমি ও আল্লাহর রাসূল
(ছাঃ)
উভয়েই একই পাত্র থেকে গোসল করতে
ছিলাম। এমনকি আমি বলতাম আমার জন্য রাখেন,
আমার জন্য রাখেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, উভয়
অপবিত্র অবস্থায় ছিলেন’।[24]


[1]. বুখারী হা/১৪১, ৩২৭১, ৫১৬৫; মুসলিম
হা/১৪৩৪;
আহমাদ হা/১৯০৮, বুলূগুল মারাম হা/১০২০।
[2]. বুখারী হা/১৪১, ৩২৭১; মুসলিম হা/১৪৩৪;
মিশকাত
হা/২৪১৬।
[3]. আহমাদ, ইরওয়া ৭/৬১; আদাবুয যিফাফ পৃঃ
৩০।
[4]. ত্বাবারাণী, কাবীর, ইরওয়া ৭/৬২;
আদাবুয যিফাফ,
পৃঃ ২৭।
[5]. তিরমিযী হা/২৯৮০; মিশকাত হা/৩১৯১, সনদ
হাসান।
[6]. ইবনু মাজাহ হা/৬৩৯; মিশকাত হা/৩৫৮৫;
সিলসিলা
ছহীহাহ হা/৩৩৭৮ আলোচনা দ্রঃ; ছহীহুল
জামে‘
হা/৭৮০২।
[7]. ইবনু মাজাহ হা/১৯২৪; মিশকাত হা/৩১৯২;
ছহীহাহ
হা/৩৩৭৭।
[8]. নাসাঈ, সুনানুল কুবরা, ছহীহাহ হা/৮৭৩;
ছহীহুল
জামে‘ হা/১২৬।
[9]. ছহীহুল জামে‘ হা/১৯২১।
[10]. ইবনু মাজাহ হা/৬৩৯; তিরমিযী হা/১৩৫;
মিশকাত
হা/৫৫১, হাদীছ ছহীহ।
[11]. আবুদাউদ হা/২৫৮, ২১৬৫, সনদ ছহীহ।
[12]. বুখারী হা/৩০২; মুসলিম হা/২৯৩।
[13]. আবুদাউদ হা/২৭২; ছহীহুল জামে‘
হা/৪৬৬৩।
[14]. আবুদাঊদ হা/২৬৪; মুসনাদে আহমাদ
হা/২১২১;
সনদ ছহীহ।
[15]. আবুদাউদ হা/৪১৮০; ছহীহ আত-তারগীব
হা/১৭৩, সনদ হাসান।
[16]. বুখারী হা/২৮৮।
[17]. বুখারী হা/২৯০; মুসলিম হা/৩০৬; মিশকাত
হা/৪৫২।
[18]. মুসলিম হা/৩০৬; আদাবুয যিফাফ, পৃঃ ৪২।
[19]. ইবনু হিববান হা/১২১৬; আদাবুয যিফাফ, পৃঃ
৪২।
[20]. আবূদাঊদ হা/২৮৮; তিরমিযী হা/১১৮
‘পবিত্রতা’
অধ্যায়; ইবনু মাজাহ হা/৫৮৪ ‘পবিত্রতা’
অধ্যায়, সনদ
ছহীহ।
[21]. বায়হাক্বী, আস-সুনানুল কুবরা, হা/৯৬৮;
আদাবুয
যিফাফ, পৃঃ ৪৫।
[22]. মুসলিম হা/৩০৭, ‘অপবিত্র ব্যক্তির ঘুমানো
জায়েয’ অনুচ্ছেদ; আবুদাউদ হা/১২৯১; তিরমিযী
হা/৪৪৯।
[23]. আবূদাঊদ হা/২১৯; মিশকাত হা/৪৭০, সনদ
হাসান।
[24]. মুসলিম হা/৩২১; মিশকাত হা/৪৪০।

Wednesday, 28 June 2017

বিবাহের কতিপয় সুন্নত সমূহঃ


(১) মাসনূন বিবাহ সাদা সিধে ও অনাড়ম্বর
হবে, যা অপচয়, অপব্যয়, বেপর্দা ও বিজাতীয়
সংস্কৃতি মুক্ত হবে এবং তাতে যৌতুকের
শর্ত বা সামর্থের অধিক মহরানার শর্ত
থাকবেনা। (তাবারানী আউসাত, হাদিস
নং- ৩৬১২)
.
(২) সৎ ও খোদাভীরু পাত্র-পাত্রীর সন্ধান
করে বিবাহের পূর্বে পয়গাম পাঠানো। কোন
বাহানা বা সুযোগে পাত্রী দেখা সম্ভব
হলে, দেখে নেয়া মুস্তাহাব। কিন্তু
আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটা করে পাত্রী
দেখানোর যে প্রথা আমাদের সমাজে
প্রচলিত তা সুন্নতের পরিপন্থী ও
পরিত্যাজ্য। (বুখারী হাদিস নং-৫০৯০,
ইমদাদুল ফাতাওয়া-৪: ২০০)
.
(৩) শাউয়াল মাসে এবং জুমুয়ার দিনে
মসজিদে বিবাহ সম্পাদন করা। উল্লেখ্য, সকল
মাসের যে কোন দিন বিবাহ করা যায়িজ
আছে। (মুসলিম ১৪২৩/ বায়হাকী ১৪৬৯৯)
.
(৪) বিবাহের খবর ব্যাপকভাবে প্রচার করে
বিবাহ করা এবং বিবাহের পরে আকদ
অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকদের মাঝে খেজুর
বন্টন করা। (বুখারী/৫১৪৭)
.
(৫) সামর্থানুযায়ী মোহর ধার্য করা। (আবু
দাউদ/২১০৬)
.
(৬) বাসর রাতে স্ত্রীর কপালের উপরের চুল
হাতে নিয়ে এই দোয়া পড়াঃ
“আল্লাহুম্মা ইন্নি আস আলুকা খয়রাহা ওয়া
খয়রা মা জাবালতুহা আলাইহি
ওয়াওযুবিকা মিন শার্রিহা মিন শার্রিমা
জাবালতাহা আলাইহি” (আবু দাউদ/২১৬০)
.
(৭) স্ত্রীর সঙ্গে প্রথমে অন্তরঙ্গতা সৃষ্টি
করবে, তার পর যখনই সহবাস এর ইচ্ছা হয়, তখন
প্রথমে নিম্নোক্ত দু’আ পড়ে নিবেঃ
“বিসমিল্লাহ্। আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ
শায়তান ও জান্নিবিশ শায়তানা মা
রাযাকতানা।” (মুসলিম/১৪৩৪)
(উপরোক্ত দোয়া না পড়লে শয়তানের
তাছীরে বাচ্চার উপর কু-প্রভাব পড়ে।
অতঃপর সন্তান বড় হলে, তার মধ্যে ধীরে
ধীরে তা প্রকাশ পেতে থাকে এবং
বাচ্চা নাফরমান ও অবাধ্য হয়। সুতরাং
পিতা মাতাকে খুবই শতর্ক থাকা জরুরী)
.
(৮) বাসর রাতের পর স্বীয় আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-
বান্ধব, শুভাকাংখী এবং গরীব
মিসকীনদের তাউফীক অনুযায়ী ওলীমা
খাওয়ানোর আয়োজন করা (মুসলিম/১৪২৭)
.
(৯) কোন পক্ষ যেওরের শর্ত করা নিষেধ এবং
ছেলের পক্ষ থেকে যৌতুক চাওয়া হারাম
(আহসানুল ফাতাওয়া ৫/১৩)
.
(১০) কনের ইযন এর জন্য স্বাক্ষীর কোন প্রয়োজন
নাই। সুতরাং ছেলের পক্ষের লোক ইযন শুনতে
যাওয়া অনর্থক এবং বেপর্দা। সুতরাং তা
নিষেধ। মেয়ের কোন মাহরুম বিবাহের এবং
উকীল হওয়ার অনুমতি নিবে। (মুসলিম/১৪২১)
.
(১১) শর্ত আরোপ করে বর যাত্রীর নামে বরের
সাথে অধিক সংখ্যাক লোকজন নিয়ে
যাওয়া এবং কনের বাড়ীতে মেহমান হয়ে
কনের পিতার উপর বোঝা সৃষ্টি করা
আজকের সমাজের একটি জঘন্য কু-প্রথা, যা
সম্পূর্ন রুপে পরিত্যাগ করা আবশ্যক। (মুসনাদে
আহমাদ/২০৭২২, বুখারী/২৬৯৭)
.
(১২) ওলীমায় অতিরিক্ত ব্যয় করা কিংবা খুব
উচু মানের খানার ব্যবস্থা করা জরুরী নয়।
বরং সামর্থানুযায়ী খরচ করাই সুন্নত আদায়ের
জন্য যথেষ্ট। যে ওলীমায় শুধু ধনী ও
দুনিয়াদার লোকদের দাওয়াত দেওয়া হয়,
দ্বীনদার ও গরীব গরীব-মিসকিনদের
দাওয়াত দেওয়া হয়না, সে ওলীমাকে
হাদিসে নিকৃষ্টতম ওলীমা বলে আখ্যায়িত
করা হয়েছে। সুতরাং এ ধরনের ওলীমা
আয়োজন থেকে বিরত থাকা উচিত (আবু
দাউদ /৩৭৫৪)
.
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুন্নত মোতাবেক
বিবাহ করার তৌফিক দান করুন। আমীন।
(Collected)

★★★ মহান আল্লাহ রিজিকদাতা হলে না খেয়ে মানুষ মারা যায় কেন?


মহান আল্লাহ তায়ালার ৯৯টি গুণবাচক নাম রয়েছে। তার মধ্যে আল্লাহ ‘রিজিকদাতা’ অন্যতম। অর্থ্যাত কার রিজিক কোথায় আছে, রিজিকে কি আছে তা মহান আল্লাহ পাকই ঠিক করে দেন।


কিন্তু পিস টিভি বাংলার নিয়মিত আয়োজন প্রশ্নোত্তর পর্বে বর্তমান সময়ে বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবীদ ডা. জাকির নায়েকের কাছে এক একজন দর্শক জানতে চান,‘আল্লাহ যদি রিজিকদাতা হন, তাহলে পৃথিবীতে মানুষ না খেয়ে মারা যায় কেন? ওই ব্যক্তি সোমালিয়া, ইথোপিয়ার মানুষদের উদাহরণ দেন।


উত্তরে ডা. জাকির নায়েক বলেন, আমাদের পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে ‘আল্লাহ রিজিকদাতা’ এবং তিনি রক্ষাকারীও। আবার আল কোরআনের অন্য একটি আয়াতে আল্লাহ পাক বলছেন, ‘আমি মানুষকে পরীক্ষা করি সম্পদের অভাব




দিয়ে, বিভিন্ন রকম বিপর্যয় দিয়ে। যেমন তিনি আমাদের দুর্ভিক্ষ দিয়ে পরীক্ষা করেন, বন্যা দিয়ে পরীক্ষা করেন। আর এর মাধ্যমে দেখতে চান সত্যিকারের বিশ্বাসী কে? তিনি পরীক্ষা করেন তোমাকে যদি একটু খাবারের কষ্ট দিই, তখনও কি আমাকে বিশ্বাস করবে? তোমাকে যদি দারিদ্রের মধ্যে রাখি, তখনও কি আমাকে বিশ্বাস করবে?


সুরা মূলকের ২নম্বর আয়াতে আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা বলেন, ‘এই পৃথিবীর জীবন পরকালের জন্য পরীক্ষা।’ আর আল্লাহর পরীক্ষা একেক জনের জন্য একেক রকম হয়ে থাকে। সবার পরীক্ষা একরকম হয় না। আপনি/আমি ভাগ্যবান যে খাবার পাচ্ছি। কিন্তু আল্লাহ অন্যভাবে আমাদের পরীক্ষা করছেন। সম্পদ দিয়ে তিনি পরীক্ষা করবেন, আপনি তার পথে খরচ করছেন কি না? এমনিভাবে কাউকে সন্তান দিয়ে, কাউকে খাবার দিয়ে, কাউকে স্বামী-স্ত্রী দিয়ে পরীক্ষা করেন।


মোটকথা আলাদা আলাদাভাবে সবাইকে পরীক্ষা করেন তিনি। আর পরীক্ষা দিতে বসে নিশ্চয় আপনি বলতে পারবেন না যে, ‘সবাইকে একই রকম পরীক্ষা দিতে হবে।’ তবে পরীক্ষা যাই হোক বিচারটা কিন্তু সঠিক হতে হবে। আর আল্লাহ আপনাকে যে পরীক্ষা দিবেন, সে হিসাবেই বিচার করবেন।


যেমন ১০০ মিটারের দৌড়ের প্রতিযোগিতায় কেউ যদি খোড়া থাকে তাহলে শুরুতে তাকে ৫০মিটার এগিয়ে রাখা হবে। আর যার কোনো সমস্যা নেই, দুটো পা’ই আছে তাকে প্রথম (১০০মিটার) থেকেই দৌড়াতে হবে। অতএব আল্লাহ আপনাকে যে পরীক্ষা দিবেন সে পরীক্ষার বিচার তিনিই করবেন। আল্লাহ আমাদের মাফ করুন।